পাম তেল ও ভিটামিন ‘ই’

ভিটামিন  ‘ই’  এর  বহুবিধ  গুণাবলীর  কারণে  ইদানিং  ডাক্তারগণ  প্রায়  সবাইকেই  বিশেষভাবে  ৪০-উর্দ্ধ  বয়স্কদের
নিয়মিতভাবে  ভিটামিন  ‘ই’  সেবনের পরামর্শ  দিচ্ছেন। ডাক্তারগণের পরামর্শ অনুযায়ী আমরাও বাজারে প্রাপ্ত  বিভিন্ন
নামের ভিটামিন ‘ই’ সেবন করছি। কিন্তু আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা যে বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুলগুলো
অধিকাংশই কৃত্রিম উপায়ে প্রস্তুত  ভিটামিন  ‘ই’ দ্বারা  তৈরী। অথচ  বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে কৃত্রিম (synthetic)
উপায়ে তৈরী ভিটামিন ‘ই’ অপেক্ষা প্রাকৃতিকভাবে খাদ্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিটামিন ‘ই’ অধিক উপকারী।

“সাপ্তাহিক টাইম” এর ৬ই  সেপ্টেম্বর  ‘৯৯ সংখ্যায় প্রকাশিত এক  নিবন্ধ হতে জানা যায়  যে, রজ:নিবৃত্তি হয়ে  গেছে
এমন (যা সাধারণত: চল্লিশ বছর হওয়ার পর হয়) মহিলাদের উপর ১৯৯৬ সালে পরিচালিত এক ব্যাপক পরীক্ষায়
দেখা গেছে, যে সমস্থ মহিলারা নিয়মিতভাবে ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করে তাদের মধ্যে হৃদরোগের মৃত্যুর হার
সাধারণভাবে হৃদরোগে  মৃত্যুর  হার অপেক্ষা  ৬২% কম। অবশ্য এর অর্থ এই  নয়  যে,  নিয়মিতভাবে  ভিটামিন  ‘ই’
ক্যাপসুল সেবন করলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা হ্রাস পাবে। বরং বর্ণিত সমীক্ষায় দেখা গেছে ভিটামিন
‘ই’ তখনই অধিক কার্যকরী যখন তা খাদ্য হতে প্রাপ্ত। এখন দেখা যাক, কোন কোন খাদ্য হতে ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া
সম্ভব।

খাদ্যদ্রব্যের জানা উৎসগুলোর মধ্যে ভোজ্য তেল/চর্বি ভিটামিন ‘ই’ এর অন্যতম প্রধান উৎস। ভিটামিন ‘ই’ আবার দুই
ধরণের—টোকোফেরল  ও  টোকোট্রায়েনল।  গবেষণার  মাধ্যমে  দেখা  গেছে  টোকোফেরল  অপেক্ষা  টোকোট্রায়েনল
মানবদেহে অধিক কার্যকরী।

টোকোট্রায়েনল নামক ভিটামিন ‘ই’ এর জানা উৎসগুলোর মধ্যে পাম তেলই সমৃদ্ধতম। রাইস ব্রান (চাউল এর কুঁড়া
হতে সংগৃহীত) তেল ছাড়া আর কোন সাধারণ ভোজ্য তেলে টোকোট্রায়েনল নামক ভিটামিন ‘ই’ এরকম উল্লেখযোগ্য
পরিমাণে নেই। বিভিন্ন সময় পরিচালিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ইহা প্রতীয়মান হয়েছে যে, পাম তেলে বিদ্যমান ভিটামিন
‘ই’  টোকোট্রায়েনল এর ক্যান্সাররোধী গুণাবলী রয়েছে। মানুষ ও ইঁদুরের  দেহের  টিউমার  কোষগুলোর বৃদ্ধি প্রতিহত
করার  ক্ষেত্রে  টোকোফেরল  নামক  ভিটামিন  ‘ই’ এর তুলনায়  টোকোট্রায়েনল  ভিটামিন  ‘ই’ এর শারীরবৃত্তিক ক্ষমতা
অনেক বেশী।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েষ্টার্ণ অন্টারিও এর অধ্যাপক কে. কে. ক্যারল এবং গুথরী দেখিয়েছেন যে, মানবদেহের
স্তন  কোষের  কালচারে  এস্ট্রোজেন  রিসেপ্টর  নেগেটিভ  এম.ডি.এ.  –  এম.বি.  –  ৪৩৫  ও  রিসেপ্টর  পজিটিভ
এম.সি.এফ. – ৭ উভয়েরই বিস্তার ও বৃদ্ধি টোকোট্রায়েনল ভিটামিন ‘ই’ প্রতিহত করে। মানব স্তন ক্যান্সার কোষের
বৃদ্ধি  রোধ  করতে  ট্যামোক্সিফেনের    (স্তন  ক্যান্সার    চিকিৎসায়    ব্যাপকভাবে  ব্যবহৃত    ওষুধ)  তুলনায়    গামা-
টোকোট্রায়েনল ৩ গুণ  বেশি শক্তি সম্পন্ন। আবার  ট্যামোক্সিফেন ও গামা-টোকোট্রায়েনল একযোগে ব্যবহার করলে
তার নিরাময় ক্ষমতা ৪৫ গুণ বৃদ্ধি পায়। সে তুলনায় স্তন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির উপর টোকোফেরল নামক ভিটামিন
‘ই’ এর কোন প্রভাব দেখা যায়নি। সম্প্রতি পরিচালিত রীডিংস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় একই ফলাফল পাওয়া
গেছে। অধ্যাপক ক্যারল প্রাণী দেহেও একই ধরণের প্রমাণ পেয়েছেন। ইন ভিট্রো সমীক্ষাগুলোতেও নির্দেশিত হয়েছে
যে, পাম তেলস্থিত টোকোট্রায়েনল ভিটামিন ‘ই’ সফলভাবে ক্যান্সাররোধে সক্ষম এবং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর দেহে
টোকোট্রায়েনলের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য যথেষ্ট সমর্থনযোগ্য যুক্তি রয়েছে।

উপরোক্ত তথ্যসমুহ ইহাই প্রমাণ করে  যে,  ভিটামিন  ‘ই’ এর উপকারিতা সমুহ সঠিকভাবে  পেতে হলে  ভিটামিন  ‘ই’
ক্যাপ্সুল (যা সাধারণত টোকোফেরল ভিটামিন ‘ই’) নয় আসুন আমরা প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে
সচেষ্ট  হই এবং  নিজের তথা পরিবারের  সকলের  সুস্বাস্থ্য  নিশ্চিতকরণের  মাধ্যমে  সুন্দর  ভবিষ্যৎ  গড়ায়  মনোনিবেশ
করি।