মালয়েশিয়ান পাম তেল প্রকৃতির সোনালী দান ও বাংলাদেশে এর চাষের উজ্বল সম্ভাবনা

মোঃ নকির উদ্দীন

মালয়েশিয়ার “তরলসোনা”  নামে খ্যাত পাম  তেলের এর বহুমুখী  ব্যবহার ও পুষ্টিগুণের কারণে  বাংলাদেশসহ সারা
বিশ্বে ক্রমাগতভাবে এর জনপ্রিয়তা এবং  চাহিদা  বেড়েই  চলেছে।  বাংলাদেশে সত্তর এর  দশক  থেকে পাম  তেলের
ব্যবহার শুরু হলেও হালে তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পয়েছে। দেশে গত পাঁচ বছরের ভোজ্য তেল ব্যবহারের গড় হিসাব
করলে দেখা যায় যে, সয়াবিন ৬০ ভাগ, পাম তেল ২২ থেকে ২৪ ভাগ এবং বাকী অংশ সরিষা তেলের দখলে। কিন্ত
২০০১ সালে পাম  তেলের  ব্যবহার অভাবনীয়হারে  বেড়ে  গিয়ে  দাড়িয়েছে প্রায় ৪২ ভাগ। অর্থাৎ  বাংলাদেশে এখন
ভোজ্য  তেলের ৪২ ভাগ চাহিদা  মিটাচ্ছে পাম তেল, যার অধিকাংশই সরবরাহ হচ্ছে মালয়েশিয়া  থেকে। এখন পাম
তেলের এই দ্রুত চাহিদা বৃদ্ধির কারণ, এর অতীত ইতিহাস এবং বাংলাদেশে এর চাষাবাদের সম্ভাবনার বিষয়ে একটু
খতিয়ে দেখা যাক।

সৃষ্টির উষালগ্ন থেকে মানুষ খাদ্যের জন্য উদ্ভিদ জগতের উপর নির্ভরশীল। অয়েল পাম নামক উদ্ভিদটি ভোজ্য তেলের
একটি  বিশেষ সমৃদ্ধ উৎস। হালকা  সোনালী উজ্জল রং এর পাম  তেলের বহুমুখী ব্যবহার  দেখে  বিশ্বব্যাপী  ভোক্তারা
বিস্মিত হয়ে যায়। আমরা হয়তোবা অনেকেই   জানিনা এর   আদি জন্মস্থান  কোথায়। এ  বিষয়ে পাম  তেল সম্পর্কে
বিস্তারিত  তথ্য  দিয়ে  জানালেন  বিশিষ্ট  শিল্পোদ্যাক্তা  ও  মার্কেটিং  ব্যক্তিত্ব  এবং  মালয়েশিয়ান  পাম অয়েল  প্রমোশন
কাউন্সিল বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার কান্ট্রি ম্যানেজার জনাব এ. কে. এম. ফখরুল আলম।

আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে অর্থাৎ মিশরের ফেরাউনের সময় থেকে পাম তেলের ইতিহাস শুরু হয়েছে।
মিশরে এই  ভোজ্য  তেলটির আগমন ঘটে খুব সম্ভবতঃ নাইজেরিয়া  থেকে যেখানে “এলিইস  গিনিনসিস” অর্থাৎ পাম
গাছটির উদ্ভব  হয়েছিল। উল্লেখ্য  যে, পাম  গাছের  বৈজ্ঞানিক  নাম  হলো  “এলিইস  গিনিনসিস”। এই অয়েল পাম
উদ্ভিদের ফল থেকেই পাম তেল আহরিত হয়।

আমাদের  দক্ষিণ  পূর্ব  এশিয়াতে  সর্বপ্রথম অয়েল  পাম  উদ্ভিদ  রোপন  করা  হয়  ১৮৪৮  সালে  ইন্দোনেশিয়ার জাভার
বোগোর    বোটানিক্যাল    গার্ডেনে।  ১৯১১ সালে    মালয়েশিয়াতে    শোভাবর্দ্ধনকারী   উদ্ভিদ    হিসাবে প্রথম পামগাছ
(ডেলি  ডিউরা)  রোপন করা  হয় এবং  ১৯১৭ সালে  সেলাঙ্গরের  তেনামারান এষ্টেটে প্রথম  বানিজ্যিক  চাষ শুর  হয়।
প্রথম  দিকে  অয়েল  পাম  উদ্ভিদকে  বানিজ্যিক  ভাবে  ব্যবহার  করার  ক্ষেত্রে  কোন  অগ্রগতি  না  হলেও  পরবর্তীতে
পরিকল্পিতভাবে সরকারী উদ্যেগে এর চাষাবাদ শুরু হয় এবং এরই ফলশ্র“তিতে নাটকীয়ভাবে পাম তেল শিল্প গড়ে
উঠে।

বর্তমান  বিশ্বে  মালয়েশিয়াই  হচ্ছে  সর্বাধিক  পাম  তেল  উৎপাদনকারী  ও  রপ্তানীকারী  দেশ।  দ্বিতীয়  স্থানে  রয়েছে
ইন্দোনেশিয়া। এছাড়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলীয় দেশসমূহ ও দক্ষিণ আমেরিকার কলাম্বিয়া,
কোষ্টারিকা, ব্রাজিল ইত্যাদি দেশসমূহে প্রচুর পাম তেল উৎপন্ন হয়। অয়েল পাম একটি বহু বর্ষজীবি উদ্ভিদ। রোপনের
আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যেই উদ্ভিদে ফলন শুরু হয় এবং ২৫ বছর পর্যন্ত তা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক থাকে
এবং হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ ৫ টন তেল পাওয়া যায়। বাণিজ্যিকভাবে চাষকৃত যে কোন ভোজ্য তেলের ফসল থেকে প্রাপ্ত
তেল অপেক্ষা পাম তেলের প্রাপ্যতা ৫ থেকে ১০ গুণ বেশী।

অয়েল পাম ফলকে প্রক্রিয়াজাত করে দু‘ধরণের  তেল পাওয়া যায়। ফলটির মাংসল অংশ  (মেসোকার্প)  থেকে পাম
তেল আহরণ করা হয়, আর বীজ বা শাঁস থেকে পাওয়া যায় পাম কার্ণেল তেল। প্রতিটি ফল থেকে ৯ ভাগ পাম তেল
ও ১ ভাগ পাম কার্ণেল  তেল পাওয়া যায়। সংগৃহীত তাজা ফলকে দ্রুত কারখানায়  নিয়ে  ষ্টেরিলাইজ ও গুচ্ছবিহীন
করার পর মাড়াই করে অপরিশোধিত তেল আহরণ করা হয়। চূড়ান্ত পরিশোধনের পর তেল খাদ্যে ব্যবহার উপযোগী
স্বর্ণাভ  হলুদ  রংয়ের স্বাদহীন, গন্ধহীন  তেলে পরিণত  হয়। একটি সরল পৃথকীকরণ  (ফ্রাকশানেশন) প্রক্রিয়ায় তরল
পাম অলিন ও জমাট পাম  স্টিয়ারিনকে পৃথক করা যায়। এতে পাম  তেলের বহুমুখী উপযোগীতা বৃদ্ধি পায়।  কোন
দ্রাবক ছাড়াই শুধুমাত্র যান্ত্রিক ও ভৌত প্রক্রিয়ায় পাম তেল আহরণ করা হয় বলে পাম তেল একান্তভাবেই প্রাকৃতিক
ভোজ্য তেল। পাম তেলে সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকারের ফ্যাটি এসিডের সুষম সমাহার ঘটায় ও এতে ভিটামিন
‘ই’ এর পরিমাণ অধিক মাত্রায় থাকায় পাম  তেল প্রাকৃতিকভাবেই একটি স্থায়ী  তেল। পাম  তেলে ৪৪% পামিটিক
এসিড ও ৫% স্টিয়ারিক এসিড রয়েছে। এই এসিড দু‘টোই সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড। অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের মধ্যে
রয়েছে ৪০% ওলিক এসিড  (যা একটি একক-অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড) ও ১০%  লিনোলিক এসিড  (যা একটি বহু-
অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড)। লিনোলিক এসিড আবার একটি অত্যাবশ্যক ফ্যাটি এসিড যা দেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয়।
পাম তেলে ফ্যাটি এসিডসমূহের সুষম বিন্যাসের কারণে ইহা একটি সুষম উদ্ভিজ্জ তেল এবং অন্যান্য তেলের তুলনায়
এর স্থায়ীত্ব অনেক বেশী। যার ফলে পাম তেলে রান্না করা খাবারের স্থায়ীত্ব (শেলফ লাইফ) বেশী হয়। অপরপক্ষে,
পরিশোধিত পাম তেল গন্ধ শূন্য হওয়াতে পাম তেল দ্বারা তৈরী খাদ্যের স্বাভাবিক গন্ধ বজায় থাকে।

পাম  তেলের  পুষ্টিগুণ  অপরিসীম।  বিদ্যমান  অনন্য  উপাদানের  জন্য  পাম  তেল  পুষ্টিতে  ভরপুর  ও  এর  ব্যবহারও
বহুমুখী। অর্ধ-জমাট হওয়াতে পাম তেল এমন কিছু ভৌতগুণ সম্পন্ন যা অনেক খাদ্য প্রস্তুতিতে প্রয়োজন হয়। অন্যান্য
উদ্ভিজ্জ তেলের মত পাম তেল কোলেস্টেরেল মুক্ত এবং সহজপ্রাচ্য, দেহে সহজে শোষিত হয় ও শক্তির উৎস হিসাবে
কাজ করে।

সদ্য আহরিত অপরিশোধিত (ক্রুড) পাম তেলে ভিটামিন ‘এ’ এর পরিমাণ গাজরের চেয়ে ১৫ গুণ এবং টমেটোর চেয়ে
৩০০ গুন বেশী। গ্রামের বাড়ী, আঙ্গিনায় যদি পাম গাছ থাকে এবং তা থেকে পাম তেল আহরণ করে সরাসরি রান্নায়
ব্যবহার করা হয় তবে শিশুদের ভিন্নভাবে  ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভাবিত রেড
পাম তেল দিনে ১ চামচ খাওয়ালে ১টি শিশুর ১ দিনের ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।

পাম তেল হচ্ছে বিটা-ক্যারোটিনের একটি সমৃদ্ধতম উৎস যা ভিটামিন ‘এ’ এর প্রি-কারসার। পাম তেলে টেকোফেরল
এবং টোকোট্রায়নল নামক দু‘ধরণের ভিটামিন  ‘ই’ অধিক মাত্রায় থাকে। অপরিশোধিত পাম  তেলে ৭৫ শতাংশ পাম
ওলিন  বা  রান্নার  তেল এবং  ২৫ শতাংশ পাম  স্টিয়ারিন  থাকে  যা প্রধানত:  মার্জারিন,  শর্টনিং,  বনস্পতি উৎপাদনে
ব্যবহৃত হয়। সাবান শিল্পের কাঁচামাল হিসাবেও পাম স্টিয়ারিন ব্যবহৃত হয়।

পাম তেল পরিশোধনের ফলে হয়ে ওঠে একটি আদর্শ কোলেস্টেরল মুক্ত ভোজ্য তেল। প্রতি গ্রাম পাম তেলে শক্তির
পরিমাণ হচ্ছে ৯ কিলো-ক্যালরী। পাম তেল আনুপাতিক হারে রক্তে উপকারী এইচ.ডি.এল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি
করে  ও ক্ষতিকর  এল.ডি.এল  কোলেস্টেরলের  মাত্রা  হ্রাস  করে।  পাম  তেল  রক্ত  জমাট  বাঁধার  প্রবনতা  হ্রাস  করে
থ্রমবোসিস রোগের ঝুঁকি কমায়। পাম তেল ধমনীতে চর্বি জমার প্রবনতা হ্রাস করে এথেরোসক্লেরোসিস রোগের অর্থাৎ
হৃদরোগ  ও  স্ট্রোকের  সম্ভাবনা  হ্রাস  করে।  ইহাছাড়া,  পাম  তেলে  বিদ্যমান  টোকোট্রায়েনল  ক্যান্সার  কোষের  বৃদ্ধি
কার্যকরভাবে প্রতিহত করতে সহায়তা করে। বর্তমানে পাম তেল ও পাম তেল জাত সামগ্রীর বহুবিধ বিস্ময়কর ব্যবহার
রয়েছে।  যেমন  ভেজিটেবল  ঘি,  কনফেকশনারী  ফ্যাট,  স্নাক  ফুডের  ইন্ডাষ্ট্রিয়াল  ফ্রাইং,  আইসক্রিম  নন-ডেয়ারী
ক্রিমারসহ নানা সামগ্রী তৈরীতে পাম তেলের ব্যবহার আজ সারা বিশ্বে স্বীকৃত। এছাড়া মহিলাদের বহুমাত্রিক প্রসাধন
সামগ্রী,  গ্লিসারলস, নানা প্রকার ঔষধি উপাদান, মোমবাতি, ইঞ্জিন অয়েল ইত্যাদি  তৈরী হয় পাম  তেলের উপজাত
হিসাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র  থেকে জানা যায় যে, বাংলাদেশে যত টয়লেট সাবান  তৈরী হচ্ছে তার প্রায় ১০০ ভাগই এই
উদ্ভিজ্জ ফ্যাট থেকে তৈরী। বর্তমান বাংলাদেশে যে সাতটি কোম্পানী উন্নতমানের গায়ে মাখা সাবান তৈরী করছে তার
মধ্যে ছয়টি কোম্পানী তৈরী করছে মালয়েশিয়া হতে আমদানীকৃত সোপ নুডলস থেকে। আর এই সোপ নুডলস তৈরী
হচ্ছে পাম তেলের উপজাত-দ্রব্য থেকে।

এছাড়া ২৫ বছর এক টানা ফলন দেয়ার পর পুরানো পাম গাছ থেকে তৈরী হয় উন্নত মানের ভিনিয়ার বোর্ড, কাঠ ও
কাগজ। পাম বীজ থেকে তেল আহরণের পর উহা হতে তৈরি হয় উন্নতমানের পশু খাদ্য। পাম ফল গুচ্ছবিহীন করার
পর প্রাপ্ত গুচ্ছ হতে তৈরী হয় উন্নতমানের ফাইবার ম্যাট্রেস। এছাড়া অয়েল পাম গাছের প্রচুর পরিমাণে চাষ যে কোন
এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য আদর্শ।

আমাদের  দেশের অর্থনীতিতে  গতিশীলতা আনতে  হলে অবশ্যই আমদানী  কমাতে  হবে। আমাদের  দেশের  ভোজ্য
তেলের বার্ষিক চাহিদার প্রায় ৮০ ভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যার ফলে বৎসরে প্রায় ১২-১৪ শত কোটি
টাকা  খরচ  হয়।  দেশে  স্থানীয়ভাবে  যে  সরিষা  উৎপাদিত  হয় তার  উৎপাদন অধিক  উৎপাদনশীল  বীজ  ও আধুনিক
চাষাবাদের মাধ্যমে  বড়জোড় ১০ ভাগ বৃদ্ধি সম্ভব। ভোজ্য তেলের চাহিদা বর্তমান হারে বৃদ্ধি পেতে থাকলে আগামী
২০০৫ সাল নাগাদ আমাদের  দেশে  ভোজ্য  তেলের চাহিদা ১০ লক্ষ টন ছাড়িয়ে যাবে।  বিগত কয়েক  বৎসর যাবত
আমাদের যে উৎপাদন হচ্ছে তা ১ লক্ষ ৩০ থেকে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টন এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমতাবস্থায় স্থানীয়ভাবে
উৎপাদন না বাড়ালে আমদানী আরো বাড়বে।

আজ  থেকে ৮ বছর  আগে ভারত সরকার অন্ধ্র প্রদেশে পরীক্ষামূলকভাবে পাম চাষ শুরু করে। কেরালা ও তামিল
নাড়–তেও এ ধরণের প্রকল্প গ্রহন করা হয়। তামিলনাড়–, অন্ধ্র প্রদেশ ও কেরালায় অয়েল পাম চাষে সাফল্য দেখে উক্ত
প্রদেশগুলিতে বর্তমানে ব্যাপকভাবে অয়েল পাম চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে – শুধু আমরাই পেছনে পড়ে আছি। আমাদের দেশে ১৯৭৮ সালে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে অয়েল পাম
গাছ চাষের প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে উক্ত প্রকল্প সফলতার মুখ দেখেনি। অয়েল পাম
চাষের জন্য ইতোপূর্বে গৃহীত পদক্ষেপ ফলপ্রসূ না হলেও বর্তমানে নতুন করে ভাববার সময় হয়েছে। কারণ আমরা
ভোজ্য  তেল আমদানি  নির্ভর  দেশ। অথচ আমরা আমাদের কৃষি জমি ব্যবহার না করেও আমাদের  দেশের প্রকৃতি,
আবহাওয়া এবং মাটির গুণাগুণ বিচার করে দেখা গেছে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার,
কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ী মাটি অয়েল পাম চাষের জন্য উপযোগী।

আমাদের দেশে পরিকল্পিতভাবে পাম চাষের উদ্যোগ গ্রহন করা হলে একদিকে যেমন পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ভোজ্য
তেলের চাহিদা  মেটানো সম্ভব হবে অন্যদিকে  দেশের অর্থনীতি লাভবান হওয়ার পাশাপাশি গড়ে উঠবে শ্রমঘন পাম
তেল  শিল্প। আত্মনির্ভরশীল জাতি  হিসেবে আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হলে অবশ্যই আমদানি কমাতে হবে। পাম
গাছের  উৎপাদনশীলতা  প্রচুর  কিন্তু  তেলের  উৎপাদন  ব্যয় অনেক  কম।  দেশে  এই অয়েল  পাম  গাছের  চাষাবাদকে
জনপ্রিয় করার জন্য সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগ প্রয়োজন। আমাদের দেশে রয়েছে পাম চাষের অনুকূল আবহাওয়া,
চাষের উপযোগী জমি ও প্রচুর বেকার জনশক্তি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে প্রবেশ
করা। এক্ষেত্রে বন্ধু প্রতিম মালয়েশিয়াও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে  দিতে পারে। “পাম গাছ  – প্রকৃতি দান করেছে
মালয়েশিয়াকে, আর মালয়েশিয়ার উপহার বিশ্বকে। মালয়েশিয়ার অর্থনীতির আকাশে সোনালী বাতাস বইয়ে দিয়েছে
পাম গাছ”। অনুরূপভাবে পাম গাছ হোক – আমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশের জন্য প্রকৃতির সোনালী উপহার।