মানব দেহের সুস্থতায় ভোজ্য তেলে ভিটামিন “এ” এবং “ই ” এর গুরুত্ব

ভিটামিন একটি প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান। ইহা একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং মানব দেহে তা অল্প পরিমাণে দরকার। ভিটামিন প্রাণীদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। বিভিন্ন ভিটামিনের মধ্যে øেহ পদার্থে দ্রবীভূত ভিটামিনগুলো হলো এ, ডি, ই, এবং কে। আমরা এখানে ভিটামিন এ ও ই নিয়ে আলোচনা করব।
ভিটামিন “এ” চোখের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এছাড়া ভিটামিন এ দেহের বৃদ্ধি ও বাহ্যিক আবরণের কোষ, চর্ম, দাঁত ও অস্থির গঠন এবং নানা রকম সংক্রামক রোগ হতে শরীরকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয়। ভিটামিন ‘এ’ র অভাবে শরীরে প্রাপ্ত লৌহের স্বাভাবিক ব্যবহারে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে রক্ত স্বল্পতা দেখা দিতে পারে।

একজন পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ অথবা মহিলার জন্য ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম রেটিনল (জবঃরহড়ষ) অথবা ২৫০০ আন্তর্জাতিক একক (ও.ট) ভিটামিন ‘এ’ দরকার, যেখানে আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে ও শহরাঞ্চলের একজন পূর্ণ বয়স্ক লোকের ভিটামিন এ গ্রহনের পরিমাণ যথাক্রমে ১৫৮০ ও ১৭১৫ আর্ন্তজাতিক একক। পূর্ণবয়স্কের খাদ্যে ভিটামিন ‘এ’র নিুসীমা: দৈনিক অন্তত ৭০০ (মহিলা) ও ৯০০(পুরুষ) মাইক্রোগ্রাম এবং পূর্ণবয়স্কের খাদ্যে উর্দ্ধসীমা: দৈনিক সর্বাধিক ৩০০০ (মহিলা ও পুরুষ) মাইক্রোগ্রাম।

ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে মানবদেহে রোগ দেখা দেয় প্রকট ভাবে, বিশেষকরে ৯ মাস থেকে ৪ বৎসরের বাচ্চাদের মধ্যে। ছেলেরাই মেয়েদের থেকে বেশী করে এ রোগের শিকার হয়। ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব জনিত রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে রাতকানা হয়ে যাওয়া। এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে ঘা হয় এবং অস্থি-ঝিল্লির প্রদাহ ও ক্যারাটোম্যালেশিয়া রোগও হতে পারে।

বাংলাদেশের শতকরা ২ দশমিক ৭ শতাংশ গর্ভবতী মহিলা ও ২ দশমিক ৪ শতাংশ দুগ্ধ দান কারী মহিলাদের রাতকানা রোগ হয়ে থাকে। ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার কর্মসূচীর মধ্যে রোগ প্রতিরোধের জন্য সরকার ভোজ্য তেলে ভিটামিন এ যোগ করার ব্যবস্থা নিয়েছে।  ভোজ্য তেল গুলোর মধ্যে পাম তেল হচ্ছে বিটা-ক্যারোটিনের সমৃদ্ধতম প্রাকৃতিক উৎস। অপরিশোধিত পামতেলে ভিটামিন ‘এ’ গাজরের চেয়ে ১৫ গুণ এবং টমেটোর চেয়ে ৩০০ গুন বেশী থাকে। পাম তেলকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে লাল পাম তেল উৎপাদন করা হয় যার মধ্যে অপরিশোধিত পাম তেলের ৮০% ভিটামিন এ বজায় থাকে।  লাল পাম তেল দিনে ১ চামচ খাওয়ালে ১টি শিশুর ঐ দিনের ভিটামিন ’এ’ এর চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।

পার্শ্বের ছবিতে ক্রমানয়ে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাদ্যের তালিকা দেখানো হলো।  

উদ্ভিজ্জ উৎস হতে প্রাপ্ত ক্যারোটিনয়েডস থেকে প্রাপ্ত প্রাক ভিটামিন এ থেকে রেটিনল পেতে হলে এই সব শাক-সব্জি ও তেল ব্যবহার করতে হবে।

ভিটামিন ই মানব দেহের গুরুত্বপূর্ন একটি ভিটামিন। মূলত এর কাজ এন্টি অক্সিডেন্ট হিসাবে দেহের জন্য ক্ষতিকর ফ্রী রেডিকেল ধ্বংস করা। এছাড়া দেহের গঠনে এবং রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ‘ই’র ভূমিকা রয়েছে। উদ্ভিদজাত তেল বিশেষ করে গমের কুঁড়ার তেল, পাম তেল, সয়াবীন তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সূর্যমুখীর তেল ইত্যাদিতে এবং বাদাম, সবুজ সব্জি, পালংশাক, ডিমের কুসুম এবং সয়াবীনে ভিটামিন ই বেশী পাওয়া যায়। মানব দেহে সাধারণত: ভিটামিন ‘ই’ র ঘাটতি হয় না। তবুও কোন কারণে ভিটামিন ‘ই’র ঘাটতি হলে নানারকম øায়বিক রোগ লক্ষণ দেখা দেয়।

ভিটামিন ই এর বহুবিধ গুণাবলীর কারণে ইদানিং ডাক্তারগণ প্রায় বিশেষভাবে ৪০-উর্ধ্বে বয়স্কদের নিয়মিত ভাবে ভিটামিন ’ই’ সেবনের পরামর্শ দিচ্ছেন। ডাক্তার গণের পরামর্শ অনুযায়ী আমরাও বাজারে প্রাপ্ত বিভিন্ন নামের ভিটামিন ’ই’ সেবন করছি। কিন্ত আমরা হয়তো অনেকেই জানি না যে বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন ’ই’ ক্যাপসুল গুলো অধিকাংশই কৃত্রিম উপায়ে প্রস্তুত ভিটামিন ই’ দ্বারা তৈরী। অথচ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে কৃত্রিম(ঝুহঃযবঃরপ)  উপায়ে তৈরী ভিটামিন ’ই’ অপেক্ষা প্রাকৃতিকভাবে খাদ্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিটামিন ই’ অধিক উপকারী। নিয়মিতভাবে ভিটামিন ই’ ক্যাপসুল সেবন করলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা হ্রাস পাবে। বর্ণিত সমীক্ষায় দেখা গেছে ভিটামিন ’ই’ তখনই অধিক কার্যকরী যখন তা খাদ্য হতে প্রাপ্ত হয়। এখন দেখা যাক , কোন কোন খাদ্য হতে ভিটামিন ’ই’ পাওয়া সম্ভব ।

খাদ্যদ্রব্যের জানা উৎস গুলোর মধ্যে ভোজ্য তেল /চর্বি ভিটামিন ’ই’ এর অন্যতম প্রধান উৎস। ভিটামিন ’ই’ আবার দুইধরণের-
টোকোফেরল ও টোকোট্রায়েনল। গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে টোকোফেরল অপেক্ষা টোকোট্রায়েনল মানবদেহে অধিক কার্যকরী। পাম তেলে ১০০০ পি.পি.এম (পার্টস পার মিলিয়ন) এর উপরে ভিটামিন ’ই’ আছে। পাম তেলে বিদ্যমান ভিটামিন ’ই’ এর ৭০ শতাংশই হচ্ছে টোকোট্রায়েনল ও অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ টোকোফেরল।

 

 

 

 

 

 

 

 

টোকোট্রায়েনল নামক ভিটামিন ’ই’ এর জানা উৎস গুলোর মধ্যে পাম তেলই সমৃদ্ধতম। রাইসব্রান (চাউল এর কুঁড়া হতে সংগৃহীত) তেল ছাড়া আর কোন সাধারণ ভোজ্য তেলে টোকোট্রায়েনল নামক ভিটামিন ’ই’ এরকম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নেই। টোকোট্রায়েনল ভিটামিন ’ই’ কোলেষ্টেরল কমাতে ও ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। সম্প্রতি পরিচালিত রীডিংস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় একই ফলাফল পাওয়া গেছে। অধ্যাপক ক্যারল প্রাণী দেহেও একই ধরণের প্রমাণ পেয়েছেন। ইন ভিট্রোসমীক্ষাগুলোতেও নির্দেশিত হয়েছে যে, পাম তেলস্থিত টোকোট্রায়েনল ভিটামিন ’ই’সফলভাবে ক্যান্সাররোধে সক্ষম এবং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর দেহে টোকোট্রায়েনলের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য  যথেষ্ট সমর্থন যোগ্য যুক্তি রয়েছে।

সম্প্রতি রচেস্টার ইউনিভাসির্িিটর একজন বিজ্ঞানী যিনি ১৯৯৬ সাল থেকে এন্টিঅক্সিডেন্ট নিয়ে গবেষণা করছেন, তিনি বলেছেন টোকোট্রায়েনল ইদুরদের কোলেস্টেরল কমায়। তাঁরা দেখিয়েছেন যে ভোজ্য তেলের টোকোট্রায়েনল সমদ্ধ অংশ পরিপূরক খাদ্য হিসাবে প্রাণীদেরকে খাওয়ানোর পর তাদের কোলেষ্টেরল ৪২% হ্রাস পেয়েছে এবং এল.ডি.এলবা মন্দ কোলেস্টেরল হ্রাস পেয়েছে ৬২%। পরিচিত কয়েকটি ভোজ্য তেল /চর্বিতে বিদ্যমান কোলেষ্টেরলের পরিমাণ

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভোজ্য তেলে ভিটামিন এ এবং ই এর পরিমাণ নিশ্চিত করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এর মহাপরিচালক বলেছেন যে, জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাম তেল বাংলাদেশে এখন অনেকটা পরিচিত।

পাম তেলের অন্যান্য পুষ্টিগুণের কারণে পাম তেল আজ বিশ্বব্যাপী আদৃত হচ্ছে। বর্তমানে ভোজ্য তেল হিসাবে রান্নার কাজে ব্যবহার ছাড়াও মাখনের বিকল্প মার্জারিন তৈরিতে একটি স্বাস্থ্যপ্রদ উপাদান হিসাবে ইউরোপের দেশগুলোতে পাম তেল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে এ তেলের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। ২০১২ সালে দশ লক্ষ টনের অধিক পাম তেল এ দেশে আমদানী করা হয়েছে, যা মোট ভোজ্য তেল আমদানীর প্রায় ৬৫%। পাম তেলের এই আমদানী বৃদ্ধি এদেশের পুষ্টি সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

উপরোক্ত তথ্য সমূহ প্রমাণ করে যে, ভিটামিন ’ই’ এবং এ এর উপকারিতা সমূহ সঠিকভাবে পেতে হলে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ই’ এবং ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

 

evsjv‡`k miKvi B‡Zvg‡a¨ †fvR¨ †Z‡j wfUvwgb G Ges B Gi cwigvYwbwðZKi‡Z h_vh_ KZ…©c¶‡K wb‡`©k w`‡q‡Q| evsjv‡`k ÷¨vÛvW©m GÛ †Uw÷s BÝwUwUDkb (weGmwUAvB) Gi gnvcwiPvjK e‡j‡Qb ‡h, Rb¯^v‡¯’¨i Rb¨ ¸i“Z¡c~Y© cvg †Zj evsjv‡`‡k GLb A‡bKUv cwiwPZ|

 

cvg †Z‡ji Ab¨vb¨ cywó¸‡Yi Kvi‡Y cvg †Zj AvR wek¦e¨vcx Av`„Z n‡”Q| eZ©gv‡b †fvR¨ †Zj wnmv‡e ivbœvi Kv‡R e¨envi QvovI gvL‡bi weKí gvR©vwib ‰Zwi‡Z GKwU ¯^v¯’¨cÖ` Dcv`vb wnmv‡e BD‡iv‡ci ‡`k¸‡jv‡Z cvg †Zj e¨vcKfv‡e e¨eüZ n‡”Q| evsjv‡`‡k G †Z‡ji e¨envi µgvMZ evo‡Q| 2012 mv‡j `k j¶ U‡bi AwaK cvg †Zj G †`‡k Avg`vbx Kiv n‡q‡Q, hv †gvU †fvR¨ †Zj Avg`vbxi cÖvq 65%| cvg †Z‡ji GB Avg`vbx e„w× G‡`‡ki cywó mgm¨vi mgvav‡b h‡_ó BwZevPK f~wgKv ivL‡Z cv‡i|

 

Dc‡iv³ Z_¨ mg~n cÖgvY K‡i †h, wfUvwgb ÕBÕ Ges G Gi DcKvwiZv mg~n mwVKfv‡e †c‡Z n‡j cÖvK…wZKfv‡e wfUvwgb BÕ Ges ÔGÕ mg„× Lvevi †L‡Z n‡e|