মালয়েশিয়ান পাম তেলের শতবর্ষ

1

অয়েল পাম (Elaeis Guineensis) একটি পশ্চিম আফ্রিকান দেশীয় উদ্ভিদ যা এঙ্গোলা, গাম্বিয়া এবং এর মধ্যবর্তী এলাকায় দেখা যায়। ১৮৪৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার বগর বোটানিক্যাল গার্ডেনে (Bogor BotanicalGarden, Indonesia) এই উদ্ভিদের চারা রোপন করার মধ্য দিয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এর সূচনা ঘটে। ১৮৭০ এর দশকে তৎকালীন মালয় সর্বপ্রথম অয়েল পাম উদ্ভিদটি হাতে পায়। ইংল্যান্ডের কিউ (Kew, England)- অবস্থিত রাজকীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন (Royal Botanic Gardens) হতে উদ্ভিদটি এনে সিংঙ্গাপুরের বোটানিক্যাল মালয়েশিয়ান পাম তেলের শতবর্ষ গার্ডেনে (Singapore Botanic Garden) রোপন করা হয়। এর বাহ্যক রূপ এটিকে শোভা বর্ধক গাছ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে এবং দ্রুতই উদ্ভিদটি প্রধান সড়কের পাশে, সরকারী দালানের সম্মুখে এবং পাবলিক পার্কসমূহে দৃশ্যমান হতে শুরু করে

ঊনিশ শতকে ইউরোপের শিল্প বিপ্লব একজন ফরাসী যুবক হেনরী ফোকনারসহ (Henri Fauconnier) আরো অনেক অল্প বয়সী উদ্যোক্তাদের

তাদের ভাগ্য গড়ার জন্য দূর প্রাচ্যের  ভ্রমণে উৎসাহ যোগায় ১৯০৫ সালে ফোকনার মালয় দেশে আগমন করেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সেলাঙ্গরর রন্তু পাঞ্জান (Rantau Panjang, Selangor) এলাকায় একটি কফি বাগান প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১১ সালে তিনি সুমাত্রার ডেলী (Deli, Sumatra) এলাকায় এনড্রেইন হালেট্ (Andrien Hallet) এর অয়েল পাম উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং উদ্ভিদটি দেখে অভিভূত হয়ে হালেট্ (Andrien Hallet) থেকে কিছু অয়েল পাম চারা ক্রয় করে তার নিজ এস্টেটে গবেষণার জন্য নিয়ে আসেন। ১৯১২ সালে যখন রাবার এবং কফির দাম পড়ে যেতে থাকলে তিনি সুমাত্রা হতে সংগৃহীত পাম বীজ সংগ্রহের মাধ্যমে ১৯১৭ সালে সেলাঙ্গরর বাজন্টাই এর বাতাং এর তেন্নামারান এস্টেটে (Tennamaram Estate in Batang Berjuntai, Selangor) রোপন করেন। এই ভাবেই মালয়শিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে  অয়েল পাম এস্টেট শিল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়।

2

১৯৫৭ সালে মালয়েশিয়া স্বাধীনতা লাভের পর দেশটির সরকার অর্থনৈতিক সম্পদসমূহকে জনগণের মধ্যে পূণঃবন্টন করা নিয়ে এনিয়ে একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় । কারন শহরবাসীদের উন্নত মানসম্পন্ন জীবন ব্যবস্থার বিপরীতে তখন গ্রামীণ এলাকায় ছিল প্রচন্ড দারিদ্রতা। ধনী-দরিদ্র্যের মধ্যে ব্যবধান হ্রাস এবং গ্রামীণ দরিদ্র জনগণের জীবন মান উন্নয়নের জন্য কৃষি সম্প্রসারণকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসাবে বিবেচনায় রাখা হয় । এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার FELDA গঠন করে এবং এর মাধ্যমে‘ভূমিহীনদেরকে ভূমি এবং চাকুরীহীনদের চাকুরী প্রদান করার নীতি গ্রহন করে। প্রাথমিকভাবে ক্ষুদ্র চাষী জমি উন্নয়ন স্কীম রাবার উৎপাদনের মনোযোগী হয়। কিন্তু এর উন্নয়ন খুবই ধীরগতির এবং রাবারের দাম ছিল নিম্নগামীহওয়ায় দ্রুত বাস্তবায়ন যোগ্য শষ্য বহুমূখী করণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে । এমতবস্থায় একটি বিকল্প অর্থকরী বা বাণিজ্যিক শষ্যের প্রয়োজন পড়ে যেটি হবে অধিকতর টেকসই এবং বিনিয়োগের বিপরীতে দু্রুত লাভ অর্জন যোগ্য। ১৯৬১ সালে বসতকারীদের কাছে অয়েল পাম পরিচিত হয়ে উঠার পর FELDA তাইব এনডাক প্রকল্পের (Taib Andak Scheme ) মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন অধীকতর গতিশীল হয়। প্রত্যেক বসতকারী ৮ একর অয়েল পাম উদ্ভিদ রোপনকৃত জমি, ২ একর সাহায্যকারী উদ্ভিদ ও সাধারণত ফলের গাছ এবং এক চতুর্থাংশ একর জমির উপর একটি বাড়ী লাভ করে । ১৯৯০ সালে মোট ১,১২,৬৩৫ জন গ্রামীণ দরিদ্র্য মানুষ, যাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ছিল অয়েল পাম এর উপর নির্ভরশীল, FELDA প্রকল্পে চাকুরী লাভ করে।

বর্তমানে বৈশ্বিক তেল ও চর্বির শিল্পে FELDA অন্যতম প্রধান অয়েল পাম উৎপাদনকারী ও পাম অয়েল সরবরাহকারী হিসাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। FELDA ৭(সাত) লক্ষ হেক্টরেরও বেশি জমিতে অয়েল পাম আবাদ

করে তা হতে বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ টন অপরিশোধিত পাম তৈল উৎপাদন করে যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশী। ১৯৯০ সাল থেকে FELDA অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রকল্পসমূহে বহুমুখীকরণ শুরু করে এবং একাধিক ব্যক্তিগত কর্পোরেট সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে। তখন থেকে FELDA-এর কার্যক্রম জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংক কর্তৃক উন্নয়নশীল দেশে দারিদ্রতা দূরীকরণের সার্থক মডেল হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।

 

3গবেষণা অয়েল পাম শিল্পের উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। এটি পূর্বে প্রধানত বিদেশী অয়েল পাম বাগান মালিকগণএবং দেশটির কৃষি বিভাগ (Department of Agriculture  বা DoA ) কর্তৃক পরিচালিত হতো। অতিতে শষ্য প্রজনন, প্রক্রিয়াকরণ এবং অয়েল পাম উৎপাদনের উপর মনোযোগ দেয়া হয়েছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে এ বিষয়ে যথেষ্ঠ অগ্রগতি অর্জিত হয়। পণ্য মূল্য পড়ে যাওয়ায় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই উন্নয়নের ধারাকে আরও বলিষ্ঠ করে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ১৯৫০ থেকে ১৯৬০- এর দশকের মধ্যে অয়েল পাম রোপনকারী গ্রুপ সকফিন (Socfin)গবেষণায় পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনিয়োগ করে এবং ফলস্বরূপ এদের এস্টেট দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণরূপ ও কার্যকর হয়ে ওঠে। গোথ্রি এন্ড হ্যারিসনস্ (Guthrie and Harrisons) ও ক্রসফিল্ড (Crosfield) কোম্পানীও যথাক্রমে সেরেম্বান এবং বান্টিং (Seremban and Banting)-এ নতুন গবেষণা স্থাপন করে এবং ১৯৬০ এর দশকে DoA পশ্চিম আফ্রিকার অর্থনীতির সাথে একটি বিনিময় কার্যক্রমের উদ্দ্যোগ নেয়। ১৯৬২ সালে গোথ্রি এন্ড হ্যারিসনস্, ক্রসফিল্ড কোম্পানী এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান একত্রিত হয়ে একটি অয়েল পাম কৌলিতত্ত্ব পরীক্ষাগার কনসোর্টিয়াম (Oil Palm Genetics Laboratory Consortium) স্থাপন করে, যাতে তারা অয়েল পাম প্রজনন (Breeding), কৌলিতত্ত্ব (Genetics) এবং বীজের গঠনতত্ত্ব (Crop Physiology) সম্পর্কে ব্যাপকভাবে গবেষণা করতে পারে। তাদের বিনিয়োগ একটি দর্শনীয় ফলাফল বয়ে নিয়ে আসে যা বালাইব ব্যাপারে, সার প্রয়োগ এবং রোপন ক্রিয়া উন্নয়নকারী উপাদান, শ্রম উৎপাদনশীলতা এবং প্রক্রিয়াগত দক্ষতা ও তেলের মানের ব্যাপারে  কার্যকর ভূমিকা রাখে।

১৯৬৯ সালে মালয়েশিয়ার কৃষি গবেষণা এবং উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান (Malaysian Agricultural Research and Development Institute) প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং এ বিষয়ে  স্বীকৃতি অর্জন করে অয়েল পাম গবেষণার অধিকার DoA এর নিকট থেকে অধিগ্রহণ করে। ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় পার্তানিয়ান মালয়েশিয়া (Universiti Pertanian Malaysia), ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়ার পাম তেল গবেষণা প্রতিষ্ঠান (Palm Oil Research Institute of Malaysia বা PORIM) এর প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ান পাম তেল বোর্ড (Malaysian Palm Oil Board বা MPOB) প্রতিষ্ঠা পাম তেল গবেষণা কার্যত্রুমকে আরও ত্বরান্বিত করে ।এই সকল প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং ব্যক্তিগত সংস্থাসমূহের দ্বারা পরিচালিত গবেষণা কার্য্যক্রম মালয়েশিয়া কে অয়েল পাম গবেষণার বিশেষ করে কৃষিকার্য, রোগ ব্যবস্থাপনা, ভালো কৃষি বিষয়ক চর্চাসমূহ, জিনম, বায়োডিজেল, পাম বায়োমাসের প্রয়োগ ক্ষেত্র গুলোতে বৈশ্বিক গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রে পরিণত হয় ।

4

১৯৮১ সালের পূর্বে মালয়েশিয়াতে পাম গাছে পাম ফলের থোকার পরিমাণ ছিল খুব কম। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য হাত দ্বারা পরাগায়ন ঘটানোর প্রয়োজন হতো, কিন্তু এটা ছিল অনেক কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল। এলাইডোবিয়াস ক্যামেরুনিকাস (Elaeidobius Kamerunicus) বা উইভিল পোকার প্রয়োগ, যা একটি পরাগায়নকারী পোকা, ছিল মালয়েশিয়ার পাম তেল শিল্পের একটি নতুন পরিবর্তনের সূচনা। পূর্বে ধারণা করা হতো যে অয়েল পাম ফল শুধুমাত্র বাতাস দ্বারা পরাগায়িত হয়। কমলওয়েলথ্ বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল ইনস্টিউিটের (Commonwealth Institute of Biological Control) গবেষণা সহযোগিতায় এলাইডোবিয়াস ক্যামেরুনিকাস (Elaeidobius Kamerunicus) কে অয়েল পাম ফলের জন্য সবচেয়ে বেশী সক্ষম পরাগায়ন পোকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয় এবং ধারাবাহিক গবেষণার পর উইভিল পোকা আমদানি পারমিট ইস্যু করা হয় যার মাধ্যমে মালয়েশিয়াতে এলাইডোবিয়াস ক্যামেরুনিকাস (Elaeidobius Kamerunicus) কে চুড়ান্তরূপে অবমুক্ত করে দেওয়া হয়। বাগানে উইভিল পোকার ব্যাবহার হেক্টর প্রতি অয়েল পাম গাছের ফল উৎপাদনে নাটকীয়ভাবে উন্নতি সাধন করে। এক বছর পর পাম তেল ও পাম কার্নেল এর উৎপাদন বৃদ্ধি মালয়েশিয়াতে যথাক্রমে ৪ লক্ষ টন এবং ৩ লক্ষ টনরেকর্ড করা হয়। এরপর থেকে পাম তেল এবং পাম কার্নেল এর উৎপাদন বাড়তে শুরু করে এবং উইভিল পোকার দ্বারা পরাগায়ন কার্য্যক্রমের মাধ্যমে পরাগায়ন খাতে প্রায় ৪৪ (RM44) বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ব্যায় সাশ্রয় হয়েছে।

5

১৯৮০ এর দশকে মালয়েশিয়ার পাম তেল শিল্প একটি সমন্বিত আক্রমণের শিকার হয়। খাদ্যে ট্রপিক্যাল তেলের (নিরক্ষীয় অঞ্চলে উৎপাদিত ভোজ্যতেল সমূহের মধ্যে পাম তেল অন্যতম বিধায় পশ্চিমা বিশ্বে পাম তেলকে ট্রপিক্যাল তেল বলা হয়) ব্যবহার হৃদরোগ এর কারণ হতে পারে এমন একটি তথ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হয় । ট্রপিক্যাল তেল আমেরিকার সয়াবিন তেলের বাজারে একটি বিকল্প উদ্ভিজ্য তেল হিসাবে আবির্ভূত হওয়ার কারণে এই প্রচারটি প্রচার লাভ করে। ট্রপিক্যাল তেলে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমান  তুলনামূলকভাবে অধিক থাকায় এটা হৃদরোগের ঝুঁকির সাথে সম্পৃক্ত এই বিশ্বাসের উপর প্রচারটি প্রচারিত হয়েছিল। এই প্রচার অভিযান খাদ্য প্রস্তুতকারীদেরকে তাদের খাদ্যপণ্য তৈরিতে পাম তেলসহ ট্রপিক্যাল তেলসমূহের ব্যবহার বর্জন এবং আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড (Hydrogenated) উদ্ভিদ তেল বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে। কিন্তু এতে করে খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে অধিক পরিমাণে ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট (Trans fat) গ্রহনের ঝুঁকি বেড়ে যায় যা পরবর্তীকালে একই প্রচারমুখী দলের আক্রমনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

বর্ণিত অপপ্রচারটি প্রতিহত করতে মালয়েশিয়ান সরকার বিদেশী সংস্থাগুলোকে সংগে নিয়ে পাম তেল এর পুষ্টিগুণ ও মানব দেহে এর প্রভাব সংক্রান্ত গবেষণাগুলোকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ নেয়। মজার ব্যাপার হলো বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারা এটি জানা যায় যে পাম তেলে তুলনামূলকভাবে সম্পৃক্ত চর্বির মাত্রা অধিক হওয়া সত্ত্বেও এটি পুঁষ্টিকর এবং এতে অনেক ধরনের স্বাস্থ্যগত গুণাবলী বিদ্যমান। এই গবেষণার মাধ্যমে পাম তেল সম্পর্কে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পায় এবং এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে ভূল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং পরবর্তীতে তা ট্রপিক্যাল তেল বিরোধী প্রচারকে প্রতিহত করে। পাম তেলকে হাইড্রোজেনেটেড উদ্ভিজ্য তেলের আংশিক বিকল্প হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এটি মানব দেহের জন্য পুুঁষ্টিকর  ও উপাদেয় উপাদান হিসাবে WHO/FAO এর দ্বারা স্বীকৃতি প্রাপ্ত। এটা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় উদ্ভিজ্য তেল, যা বাংলাদেশসহ ১৫০টিরও অধিক দেশে তিনশত কোটিরও বেশী জনগণ ব্যবহার করে থাকেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সনে মালেশিয়া প্রায় ১ কোটি ৯৩ লক্ষ টন পাম ও পাম কার্নেল তেল উৎপাদন করে এবং প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টন রপ্তানি করে। প্রধান আমদানীকারক দেশ ̧লি ছিল ভারত, চীন, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, তুরস্ক, , ফিলিপাইন, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, জাপান এবং ইতালি।

(মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিলের ত্রৈমাসিক গ্লোবাল অয়েলস্ এন্ড ফ্যাটস্ বিজনেজ ম্যাগাজিন, বর্ষ ১৪, সংখ্যা ০১, ২০১৭ এর পৃষ্ঠা ৯-১১ হতে ভাষান্তরিত)